আমাদের কথা
কাটাবাড়ীয়া আব্দুর রহিম খান উচ্চ বিদ্যালয় একটি স্বপ্ন, একটি অঙ্গীকার যা শিক্ষার আলোকে একটি আদর্শ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করবে না, বরং তারা হয়ে উঠবে নৈতিক, দেশপ্রেমিক, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান নাগরিক।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠদান কেন্দ্র নয় এটি একটি চরিত্র গঠনের স্থান, যেখানে শিক্ষার্থী শেখে কিভাবে মানুষ হতে হয়। আমাদের শিক্ষকমণ্ডলী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুন্দর, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
ভবিষ্যতেও আমরা এই প্রতিষ্ঠানকে আরও আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করে যাব।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
প্রতিষ্ঠাকাল :
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের দক্ষিণপ্রান্তে কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহা-সড়কের পাশে অতি মনোরম পরিবেশে কাটাবাড়ীয়া এ. আর. খান উচ্চ বিদ্যালয়টি অবস্থিত। গ্রামের নাম ডাউকিয়া, প্রকাশ- কাটাবাড়ীয়া, লতিবাবাদ ইউনিয়ন এর একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় এটি ।
১৯৬৯ সালে তৎকালীন সময়ের শিক্ষানুরাগী ও লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তযোদ্ধা জনাব আঃ বারী খান সাহেব তাঁর পিতা আব্দুর রহিম খান এর নামে কাটাবাড়ীয়া আব্দুর রহিম খান উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি অত্র অঞ্চলের কৃষক, শ্রমিক, গরিব, দুঃখী, মেহনতি মানুষদের নিয়ে গড়ে তুলেন এই শিক্ষাঙ্গনটি। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ফলে অত্র অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা বিশেষ করে মেয়ে শিশুরা মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার সুযোগ পেয়েছে। এ অঞ্চলের মেয়ে শিশুরা শিক্ষিত হয়ে শিক্ষিত জাতি গঠনে বিরাট ভূমিকা রাখছে।
১৯৭১ সালে এদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ যোদ্ধা জনাব আঃ বারী খান সাহেব অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে পাকবাহীনির হাত থেকে কিশোরগঞ্জের মাটিকে মুক্ত করেন স্বাধীনতার একদিন পর অর্থাৎ ১৭ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। এই যশকৃতীময় সূর্য সন্তান দেশকে স্বাধীন করার পর নিজের এলাকাকে শিক্ষিত ও স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলার দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে যান। তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল অত্র বিদ্যালয়টি ।
সভাপতি:
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আঃ বারী খান সাহেব বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০০১ সাল পযন্ত দীর্ঘদিন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি একাধারে সমাজকর্মী, রাজনৈতিক, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন লতিবাবাদ ইউনিয়নের একজন প্রবীণ অভিভাবক।
কিন্তু তিনি আমাদের মাঝে বেশিদিন থাকতে পারেননি। তিনি বিগত ১৯ শে এপ্রিল ২০০১ তারিখে ঢাকা বক্ষব্যধি হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। এই মহান ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জের আপামর জনতা সহ আমরা শিক্ষক কর্মচারী সকলেই শোকাভিভূত। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তাঁরই দ্বিতীয় পুত্র জনাব শহীদুল আলম খান সাহেব। তিনিও পিতার মত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু বিধি বাম । তাঁর এই জনপ্রিয়তাই তাঁর কাল হয়ে গেল। বিগত ৭ ই এপ্রিল ২০০৬ তারিখে প্রকাশ্য দিবালোকে একদল দুস্কৃতিকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
পরবর্তীতে জনাব আঃ বারী খান সাহেবের বড় ছেলে জনাব ফরিদ আহামেদ খান সাহেব বিদ্যালয়টির সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহন করেন। তিনিও অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বিগত ২০ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৩ তারিখে দুরারোগ্য ব্যধিতে পরলোকগমন করেন। তারপর বিগত ২১ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৩ তারিখে জনাব আঃ বারী খান সাহেবের তৃতীয় পুত্র জনাব শরীফ আহমেদ খান সাহেব অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহন করেন।
তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিদ্যালয়টিকে বর্তমান অবকাঠামোতে নিয়ে আসেন। তাঁর প্রচেষ্টায় সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের লোকজন অত্র বিদ্যালয়টিকে সুনজরে দেখেন এবং চারতলা ভবনটি মঞ্জুর করেন।
প্রধান শিক্ষক:
প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক মরহুম হাফিজ উদ্দিন সাহেব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তিনি তাঁর শিক্ষক স্টাফদের নিয়ে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়টি পরিচালনা করেন এবং ১ জানুয়ারী ১৯৯৪ তারিখে এমপিওভূক্ত করান।
তাঁর অবসরের পর অত্র বিদ্যালয়ের সহ প্রধান শিক্ষক জনাব তারক চন্দ্র পন্ডিত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দায়িত্বকালে বিদ্যালয়ের অনেক উন্নয়ণ হয়। তিনি সপরিবারে আমেরিকা চলে যান।
পরবর্তীতে অত্র বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক বাবু নয়ন কুমার দত্ত রায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহন করেন। তিনি তাঁর সময়কালে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করেছিলেন। তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহন করার পর বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও চারতলা বিল্ডিং সহ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অনেক পরিবর্তন ঘটে। তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর নিকট অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
সিনিয়র শিক্ষক বাবু নয়ন কুমার দত্ত রায় এর অবসরের পর বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন সিনিয়র শিক্ষক কামরুন্নেছা। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ :
বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ অত্যন্ত প্রিয়ভাজন হিসেবে এক সঙ্গে চাকুরীরত আছেন। স্টাফের সকলই একত্রে ভ্রাতৃত্ববোধ সহানুভুতিশীল মনমানুসিকতায় চাকরিরত আছেন, যেন সকলই একই ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত ভাই বোন । এখানে কেউ কাউকে ছোট বা বড় চাকুরীজীবি মনে করেন না। প্রায় সকলই জীবনের প্রথম চাকুরী হিসেবে শুরু থেকে এখন পযন্ত মিলেমিশে কর্মরত আছেন।
স্থাপনা:
বিদ্যালয়টিতে চারটি স্থাপনা ও একটি খেলার মাঠ রয়েছে। মাঠের পূর্ব পাশে একটি চারতলা বিল্ডিং, উত্তর পাশে একটি দুতলা বিল্ডিং এবং পশ্চিম পাশে আঃ বারী খান ভবন নামে একটি হাফ বিল্ডিং রয়েছে। দক্ষিন পাশে দক্ষিণা বাতাসের হিমশীতল আরামদায়ক খোলা দুটি পুকুর। শিক্ষা বিষয়ক : বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনী পযন্ত পাঁচটি শ্রেনীতে অতিরিক্ত পাঁচটি শাখা রয়েছে। ৯ম ও ১০ম শ্রেনীতে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, এবং কারিগরি বোর্ডের অধিনে দুটি ট্রেড রয়েছে। ট্রেড দুটি হলো, একটি অটোমোটিভ, অপরটি কম্পিউটার টেকনোলজি ট্রেড।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৮০০ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে আসছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী, কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ঝাকঝমকপূর্ণ ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন করে এবং প্রতিবছর শিক্ষা সফরে অনেক ঐতিহাসিক স্থান পরিভ্রমনের ব্যবস্থা করে। বিদ্যালয়ের এস.এস.সি. পরীক্ষার ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। বিদ্যালয়টি উত্তোরত্তর উন্নতি লাভ করছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সুন্দর হউক, এই প্রত্যাশা সকলের ।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
কাটাবাড়ীয়া আব্দুর রহিম খান উচ্চ বিদ্যালয় একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে,
বিদ্যালয়টির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং সমাজ সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, একটি নিরাপদ, সহানুভূতিশীল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনাকে পূর্ণ বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আমরা বিশ্বাস করি, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং নৈতিক শিক্ষা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, সংস্কৃতি চর্চা এবং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
